পুলিশ একাডেমিতে শ্রিংলা কীসের আলামত, – প্রশ্ন রিজভীর

ভারতীয় হাই কমিশনারের সারদা পুলিশ একাডেমি পরিদর্শন নিয়ে প্রশ্ন তুলে সরকারের বিরুদ্ধে ‘রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা উন্মুক্ত করার ষড়যন্ত্রের’ অভিযোগ এনেছে বিএনপি।

শুক্রবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, “এটি কীসের আলামত? দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো পরিদর্শন করছেন বাংলাদেশে দায়িত্বপ্রাপ্ত বর্তমান সরকারের সাথে ঘনিষ্ঠ একটি দেশের কূটনীতিকরা।”

তিনি বলেন, “সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য প্রভুদের কাছে রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তাকে উন্মুক্ত করে দিচ্ছে। দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিদেশি কূটনীতিকের পরিদর্শন কি অজানা চুক্তির বর্হিপ্রকাশ?”

বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ ভবন ও আইসিটি সেন্টার নির্মাণের প্রকল্পের স্থান দেখতে গত ৩০ জানুয়ারি রাজশাহীর সারদায় যান ভারতীয় হাই কমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা। পরে তিনি রাজশাহী চেম্বার অব কর্মাস, নগর ভবন ও জয়কালী মন্দিরও পরির্দশন করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনাও এর আগে বাংলাদেশের ৬৩ জেলা ভ্রমণ করেছেন, তখন বিএনপি এ ধরনের সন্দেহ প্রকাশ করেনি কেন প্রশ্ন করা হলে রিজভী বলেন, “দেখুন, সেটা ব্যক্তিগত সফর। আর অন্য দেশ হত, সেটাও একটা কথা ছিল। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো, পুলিশ একাডেমি বা অন্যান্য জায়গাগুলোতে যদি একটি বিশেষ দেশের কূটনীতিকরা বার বার যেতে থাকেন- তাহলে প্রশ্ন দেখা দিতেই পারে।”

সরকারের সমালোচনা করে নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, “সামগ্রিকভাবে মনে হচ্ছে, আমাদের সকল সরকারি প্রতিষ্ঠানকে পার্শ্ববর্তী দেশের এক্সটেনশনে পরিণত করার উদ্যোগ চলছে ।কেবল তাই নয়, প্রতিবেশী দেশকে খুশি করার জন্য নানা উপহারে ভূষিত করা হচ্ছে রাষ্ট্রাচারের প্রকরণ অমান‌্য করে।”

এর বিনিময়ে বাংলাদেশ ‘কী পাচ্ছে’- এই প্রশ্ন করে রিজভী নিজেই উত্তর দেন- “এর বিনিময়ে প্রাপ্তি হচ্ছে লবডঙ্কা।”

এই বিএনপি নেতা বলেন, ভারত পাট ও পাটজাত পণ্যের ওপর ‘একতরফা’ অ্যান্টি ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করায় বাংলাদেশের পাট রপ্তানি বন্ধ হতে বসেছে, রপ্তানিকারকরা বিপাকে পড়েছেন।

“এ ব্যাপারে তাবেদার সরকারের কোনো উচ্চবাচ্চ নেই, সরকারের কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না। উল্টো তারা হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে সড়ক-মহাসড়ক নির্মাণ করে প্রতিবেশী দেশের পণ্য পরিবহনে সুবিধা করে দিচ্ছে। বাংলাদেশকে একেবারে ভারতের এক নম্বর মার্কেটে পরিণত করার জন্য যত আয়োজন- সেটি এ সরকার সম্পন্ন করছে।”

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার ভারতকে ‘ট্রানজিটের নামে করিডোর’, ‘মালামাল পরিবহনের নামে’ নৌ ও সমুদ্র বন্দর ব্যবহারের সুযোগ দিলেও বিনিময়ে বাংলাদেশ ‘কিছুই পাচ্ছি না’ বলে মন্তব‌্য করেন রিজভী।

দেশে ‘রাজনেতিক-সাংস্কৃতিক-অর্থনৈতিক আগ্রাসন’ এখন অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি বলে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিবের অভিযোগ।

তিনি বলেন, “আদালতের ঘাড়ে বন্দুক রেখে বিচারিক প্রক্রিয়ার নামে জিয়া পরিবারের ওপর অমানবিক আক্রমণ চালানো হচ্ছে। নাজেহাল করতেই খালেদা জিয়াকে প্রতি সাপ্তাহে একবার কিংবা দুই বার আদালতে উপস্থিত থাকতে বাধ্য করা হচ্ছে। এটা সরকার প্রধানের প্রতিহিংসার বর্ধিত বহিঃপ্রকাশ।”

রিজভী হুঁশিয়ার করে বলেন, “যারা এই নাজেহালের সাথে সংশ্লিষ্ট থাকছেন, তাদের উপলব্ধি করা উচিৎ, এ্ সরকারই শেষ সরকার নয়। তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, বয়োজ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদ, কোটি কোটি মানুষের নেত্রী খালেদা জিয়ার সাথে এহেন আচরণ অসদাচরণেরই শামিল বলেই আমরা মনে করি।”

চাঁদপুরের হাইমচরে শিক্ষার্থীদের মানবসেতুতে এক জনপ্রতিনিধির হাঁটা এবং জামালপুরের মেলান্দহে স্কুলের জমিদাতার ছাত্রদের কাঁধে চড়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, “বাংলাদেশে আজ কী হচ্ছে? কোমলমতি শিশুদের ঘাড়ের ওপর শেখ হাসিনার মতো নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যানরা সেতু তৈরি করে তার ওপর দিয়ে হেঁটে যান। কী কুৎসিত, কী কুরুচিপূর্ণ হলে পরে এটা হতে পারে!”

এই বিএনপি নেতার মতে, সরকারের ‘অসদাচরণ ও জঙ্গিশাসনের’ কারণেই সমাজের বিভিন্ন স্তরে এর প্রভাব পড়ছে, ছাত্রের কাঁধে চড়ার মত ঘটনা ঘটছে।

অন‌্যদের মধ‌্যে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, কেন্দ্রীয় নেতা সানাউল্লাহ মিয়া, এম এ মালেক, আসাদুল করীম শাহিন, তাইফুল ইসলাম টিপু ও মনির হোসেন সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

Loading Facebook Comments ...

Leave a Reply

x

Check Also

বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, কবি ও শিল্পীদের সম্মানে প্রধানমন্ত্রীর ইফতার

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, কবি ও শিল্পীদের এবং তার পরিবার ও আত্মীয়স্বজনদের সম্মানে ...