চট্টগ্রামের সড়কে এ যেন মৃত্যুর মিছিল:: চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি-কক্সবাজারে একদিনে ১১ জন নিহত

চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি ও কক্সবাজারে একদিনে ( আজ শুক্রবার ) সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ১১ জন নিহত নিহত হয়েছেন।

আমাদের হাটহাজারী প্রতিনিধি জানান, শুক্রবার দুপুর আড়াইটার দিকে চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার ১১ মাইল এলাকায় ট্রাক-নসিমনের মুখোমুখি সংঘর্ষে মো. মিলন (২৮) নামের এ ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।। নিহত মিলন বগুড়া জেলার সেরেকান্দি থানার মৃত লস্কর আলীর ছেলে।

হাটহাজারী মডেল থানার এসআই শফিক নিহতের ঘটনাটি নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহত মিলনের লাশটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। আর এ ঘটনায় ট্রাক ড্রাইভারকে আটক করা হয়েছে।

অপরদিকে আমাদের খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি জানান , শুক্রবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্রের সম্মুখে পাথর বোঝাই ট্রাকচাপায় শিশুসহ ৭ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। হতাহতদের খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, আলুটিলা ধাতুচৈত্য বৌদ্ধ বিহারের প্রতিষ্ঠাতা ও জনবল বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত চন্দ্রমনি মহাস্থবির ভান্তের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া উপলক্ষ্যে সকাল থেকেই আলুটিলা পর্যটন এলাকায় হাজার হাজার পুজারি ও ভক্তদের ভীড় ছিল।

সেখানে রাস্তার পাশে ফুটপাতে বাহারী পণ্যের পস্রা সাজিয়ে বসে দোকানীরা। এসময় বিপরিত দিক থেকে আসা খাগড়াছড়ি সদরগামী পাথর বোঝাই একটি ট্রাক ফুটপাতে দাড়িয়ে থাকা ধাতুচৈত্য বৌদ্ধ বিহারে আগত ভক্তদের চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই ৭ জন নিহত হন।

নিহতরা হলেন, মহালছড়ির চোংড়াছড়ি এলাকার নেইম্রা মার্মা (৪০), উক্রাচিং মার্মা, উচনু মার্মা (১৮) ও মাটিরাঙার তবলছড়ি এলাকার পুলু মার্মা (১৬)। বাকীদের নাম ও পরিচয় এখনো জানা যায়নি।

পরে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় সেনাবাহিনী, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা আহত ও নিহতদের উদ্ধার করে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।

খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. নয়নময় ত্রিপুরা জানান, আহতদের মধ্যে এক শিশু ও এক নারীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহতদের প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে।

তাদের চিকিৎসার জন্য প্রচুর রক্তের প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকে রক্তদানে এগিয়ে আসার আহবানও জানান।

মাটিরাঙা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহাদাত হোসেন টিটো বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘাতক ট্রাকের চালক মো. সেলিম পালানোর চেষ্টা করলে জনতার সহায়তায় পুলিশ তাকে আটক করে। এসময় ঘাতক ট্রাকটিকেও পুলিশি হেফাজতে নেয়া হয়। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলেও জানান তিনি।

এদিকে আমাদের কক্সবাজার প্রতিনিধি জানান,  জেলা শহরের চকরিয়ায় শ্যামলী পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে একটি মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে এক নারীসহ ৩ জন নিহত হয়েছেন। এতে আরও ৭ জন দগ্ধ হয়েছেন। তাদের উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

শুক্রবার (৩  ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১ টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়া উপজেলার হারবাং এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- মাইক্রোবাস চালক মোহাম্মদ আরিফ (৩৫), ইয়ামিন (৬) ও মাফিয়া বেগম (৪৫)।

চকরিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কামরুল আজম জানান, ঢাকাগামী শ্যামলী পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে কক্সবাজারমুখী মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে মাইক্রোবাসটিতে আগুন ধরে যায়। পরে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসক ৩ জনকে মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি আরও জানান, গাড়ী দুটি জব্দ করা হয়েছে এবং নিহত ৩ জনের লাশ চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে।

Loading Facebook Comments ...

Leave a Reply

x

Check Also

প্রতিটি সেহরি-রাত, প্রতিটি ইফতার-সন্ধ্যা আমাদের জন্য যেন ঈদের খুশী বয়ে আনে !

রাত তিনটা। চার শতাধিক মানুষ লাইনে বসা। সবার হাতে পৌঁছে যাচ্ছে সাদা ভাত ও ঘন ...