চট্টগ্রামের রাউজানে গড়ে তোলা হচ্ছে ষষ্ঠ বিসিক শিল্পনগরী

চট্টগ্রামের রাউজানে গড়ে উঠছে ষষ্ট বিসিক শিল্পনগরী। প্রায় ৩৫ একর জায়গাজুড়ে বাস্তবায়িত হচ্ছে এটি। প্রায় ৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়ন হচ্ছে প্রকল্পটি।

চট্টগ্রাম-রাঙামাটি সড়ক থেকে তিন কিলোমিটার উত্তরে রাউজান ইউনিয়নের পূর্ব রাউজান এলাকায় গড়ে তোলা হচ্ছে এই ষষ্ঠ বিসিক শিল্পনগরী। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এখানে তৈরী হবে ১৮৪টি শিল্প-কারখানা।

কর্মসংস্থান হবে সাড়ে সাত হাজার লোকের। রাউজান বিসিক শিল্পনগরী নামে এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে জানিয়েঝেস বিসিকের নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র।

বিসিক চট্টগ্রামের উপ-মহাব্যবস্থাপক কৃষ্ণ কুমার আচার্য্য প্রকল্পে সম্পর্কে বলেন, প্রকল্পটি ইতোমধ্যে একনেকে অনুমোদন হয়েছে। ফলে এ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক কাজ শুরু হয়ে গেছে। এ জন্য একজন প্রকল্প কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে।

কৃষ্ণ কুমার আচার্য্য জানান, প্রায় ৩৫ একর জায়গায় ১৮৪টি শিল্প প্লটে শিল্প-কারখানা গড়ে তোলা হবে। তবে প্রকল্পের বাস্তবায়নকালে প্লটের সংখ্যা বাড়তে বা কমতে পারে। ২০১৯ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজ সম্পন্ন করার কথা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, শিল্প ইউনিটগুলোতে সাড়ে সাত হাজার লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। প্রকল্পের জন্য ৩৫ একর ভ‚মি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৭৫ বর্গমিটার জায়গায় প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ, ৪৬ বর্গমিটার জায়গায় পা¤প ড্রাইভার কোয়ার্টার নির্মাণ বাদে অবশিষ্ট জায়গা শিল্প প্লটের জন্য উন্নয়ন করা হবে।

এছাড়া আভ্যন্তরীণ সড়ক নির্মাণ, ড্রেন নির্মাণ, বৈদ্যুতিক লাইন নির্মাণ, গ্যাস লাইন স্থাপন, ডিপ টিউবওয়েল স্থাপন, ২ দশমিক ৫ কিলোওয়াট সোলার প্যানেল, কালভার্ট ক্রস ড্রেন নির্মাণ করা হবে প্রকল্পের আওতায়।

বিসিকের আরেক এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রকল্পের তথ্যমতে রাউজান বিসিক শিল্প নগরীতে বিশেষ করে চার ধরনের শিল্পকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে। এগুলো হলো ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প, খাদ্য ও খাদ্যজাত শিল্প, বস্ত্র ও বস্ত্রজাত শিল্প এবং রাসায়নিক শিল্প কারখানা।

সূত্র জানায়, কালুরঘাট-১, কালুরঘাট-২ (স¤প্রসারিত), ফৌজদারহাট, ষোলশহর এবং পটিয়ার পর চট্টগ্রামে ষষ্ঠ শিল্পনগরী হতে যাচ্ছে এটি। এর আগে ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে প্রকল্পের সম্ভাব্যতা ও বাস্তবিক অবস্থা তুলে ধরে রিপোর্ট পাঠানো হয় শিল্প মন্ত্রণালয়ে। পরের বছর ২০১৫ সালের মার্চে প্রকল্পের সমীক্ষা এবং জুলাইয়ে প্রকল্পটি যাচাই বাছাইয়ের জন্য শিল্প মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।

চ‚ড়ান্ত যাচাই বাছাইয়ের পর গত ৬ সেপ্টেম্বর প্রকল্পটি একনেকে পাস হয়। প্রকল্প যাচাই বাছাইয়ের প্রতিবেদনে বিসিক শিল্পনগরী গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা রয়েছে উল্লেখ করে তা বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়।

এতে উল্লেখ করা হয় উন্নত সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা, জমির সহজ প্রাপ্যতা, বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাসসহ অবকাঠামোগত সকল সুযোগ সুবিধা রয়েছে এখানে; যা শিল্পনগরী গড়ে তোলার সহায়ক। প্রতিবেদনে প্রকল্প এলাকায় ৮ ফুট মাটি ভরাটের সুপারিশ করা হয়। এছাড়া দক্ষ ও পর্যাপ্ত শ্রমিক প্রাপ্তির বিষয়টিও উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে।

Loading Facebook Comments ...

Leave a Reply

x

Check Also

লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগাং মডেল স্টার-এর বিনামূল্যে শিশুদের চক্ষু চিকিৎসা সেবা প্রদান

লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগাং মডেল স্টার-এর উদ্যোগে গত ১৮ আগস্ট চট্টগ্রাম মুসলিম ইনস্টিটিউট হলে বিনামূল্যে ...