ঘুষ দিলে বিমানে বোমা রাখাও সম্ভব! (ভিডিও)

ঘুষ দিলে বিমানের ফ্লাইটে বোমা রাখাও সম্ভব বলে মনে করছেন গোয়েন্দারা। কঠোর নিরাপত্তার মধ্যেও যদি বিমানের বিভিন্ন পয়েন্টে ও সিটের পাইপের মধ্যে ঘুষ দিয়ে চোরাই স্বর্ণ রাখা সম্ভব হয়, তাহলে একই ব্যক্তিকে ঘুষের পরিমাণ বাড়িয়ে দিলে একইস্থানে বিস্ফোরক রাখা অসম্ভব নয়। জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদের এই বিশ্বায়নের যুগে এটা খুবই উদ্বেগের বিষয় বলেও শঙ্কিত গোয়েন্দারা।

শুল্ক গোয়েন্দা ও বিমান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বিভিন্ন সময়ে তারা বিমানের ভেতর থেকে বিপুল পরিমাণ চোরাই স্বর্ণ উদ্ধার করেছেন। আর এ তথ্যই তাদের ভীষণ উদ্বেগের মধ্যে ফেলে দিয়েছে। তারা ভাবছেন, যে মহলকে ম্যানেজ করে স্বর্ণ রাখা হচ্ছে, সেই মহলের চাহিদা অনুযায়ী ঘুষ দিলে সেখানে বিস্ফোরক কিংবা বোমা রাখাও সম্ভব। এতে বিমানের মতো স্পর্শকাতর একটি আকাশবাহন আসলেই হুমকির মুখে পড়েছে। সর্বশেষ গত ২৭ নভেম্বর হাঙ্গেরির বুদাপেস্টে যাওয়ার পথে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বহনকারী বিমানটিতে ত্রুটি ধরা পড়লে তুর্কমেনিস্তানে জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হয়। প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানে ত্রুটি পাওয়ার পর নড়েচড়ে বসেছেন গোয়েন্দারা।

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অফিদফতরের এক কর্মকর্তা বলেন, মনে হলেই গা শিউরে উঠে। যে বিমানের সিটের নিচের পাইপ থেকে এর আগে চোরাই স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছিল, সেই একই বিমানেই প্রধানমন্ত্রী দেশের বাইরে যাচ্ছিলেন। এমনকি প্রধানমন্ত্রীকে বহন করার সময়ও ওই বিমানে ত্রুটি ধরা পড়ে। যার কারণে বিমানটি জরুরি অবতরণে বাধ্য হয়েছিল। তাই সব কিছু মিলিয়ে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় আছেন তারা। এসব উদ্বেগের কথা জানিয়ে এরইমধ্যে শুল্ক গোয়েন্দা অফিস থেকে বিমানসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠিও পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, প্রতি তিন মাস পরপর যেন বিমান ও বিমানবন্দরের পুরো নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হয়। এছাড়া বিমানের ওপর নজরদারি আরও জোরদার করতেও বলা হয় ওই চিঠিতে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-০২৬ নম্বর ফ্লাইট থেকে ৬০টি সোনার বার উদ্ধার করা হয়। দোহা থেকে আসা ফ্লাইটটি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামার আগেই গোয়েন্দারা জানতে পারেন ওই ফ্লাইটে চোরাচালানের স্বর্ণ আসছে। কিন্তু ফ্লাইটটি অবতরণের পর কোনও যাত্রীর কাছে স্বর্ণ না পেয়ে বিমানে তল্লাশি শুরু করেন শুল্ক গোয়েন্দারা। পরে তারা বিমানের দুটি সিটের দু’পাশের পাইপের ভেতর থেকে সোনার বারগুলো উদ্ধার করেন। পাইপের ভেতরের মাপ অনুযায়ী সোনার বারগুলো তৈরি করা হয়েছিল বলেও জানান তারা। যা বিমানের প্রকৌশল বিভাগের লোক ছাড়া সম্ভব নয় বলেও মনে করেন গোয়েন্দারা।

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, বিমানের ভেতরের যেসব স্থান থেকে স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে সেটা খুবই উদ্বেগজনক। বিপথগামীরা অতি লোভে আরও ভয়ংকর কিছুও রাখতে পারে বলে মনে করেন তিনি। তাই তারাও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন।

বিমানের ভেতরে বিভিন্ন মাধ্যমে সোনা চোরাচালানের বিষয়ে কোনও মন্তব্য না করলেও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এম মোসাদ্দেক আহমেদ বলেন, নিরাপত্তা জোরদার করতে নানা ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তাছাড়া বিভিন্ন সংস্থার সব ধরনের নিরাপত্তা পরামর্শ পর্যবেক্ষণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং হচ্ছে। এরইমধ্যে বেশ কিছু স্থানে নজরদারি বাড়াতে সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। অন্যান্য পদ্ধতিতেও মনিটরিং বাড়ানো হয়েছে।

Loading Facebook Comments ...

Leave a Reply

x

Check Also

তথ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ চাইল চলচ্চিত্র পরিবার

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর ওপর অনাস্থা প্রকাশ করে তার পদত্যাগ দাবি করেছে চলচ্চিত্র পরিবার। এই ...