মহেশখালীতে দেশের প্রথম ভাসমান এলএনজি | জটিলতায় মেয়াদ বাড়ছে দ্বিতীয় দফা

প্রতিদিন ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের লক্ষ্য নিয়ে কক্সবাজারের মহেশখালীতে চলছে দেশের প্রথম ভাসমান এলএনজি (লিকুইড ন্যাচারাল গ্যাস) টার্মিনালের নির্মাণকাজ। মহেশখালী-আনোয়ার পাইপলাইনের মাধ্যমে সে গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। মোট ৯১ কিলোমিটার পাইপলাইন প্রকল্পের মধ্যে ৮৯ দশমিক ৩৬৫ কিলোমিটারের কাজ শেষ হলেও ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় বাকিটা এখনো শুরুই হয়নি। এক দশমিক ৬৩৫ কিলোমিটার পাইপলান নির্মাণের জন্য উল্টো আরও এক বছর মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করেছে গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেড (জিটিসিএল)।

সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালের ২৩ জুন একনেক সভায় প্রকল্পটির মূল ডিপিপি অনুমোদিত হয়। তখন প্রাক্কলিত ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছিল ৯৮১ কোটি ৯০ লাখ টাকা। যার মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন (জিওবি) ৫৮৯ কোটি ১৪ লাখ এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন সংস্থা জিটিসিএলের তহবিল থেকে বরাদ্দ রাখা হয় ৩৯২ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। প্রকল্প মেয়াদ নির্ধারণ করা হয় ২০১৪ সালের জুলাই থেকে ২০১৬ সালের জুন পর্যন্ত। গত বছরের ২৭ মার্চ ব্যয় বাড়িয়ে করা হয় এক হাজার ৩৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। তবে এ মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন না হওয়ায় আবারও ব্যয়সহ সময় বাড়ানোর আবেদন করে নির্মাণ প্রতিষ্ঠান। সেই পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ৭ আগস্ট প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি না করে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত এক বছর মেয়াদ বাড়ানো হয়।

৯১ কিলোমিটারের মধ্যে ৮৯ দশমিক ৩৬৫ কিলোমিটার পাইপলাইন নির্মাণকাজ ইতোমধ্যে সম্পন্নও হয়েছে। বাকি কাজ শেষ করতে আবারও প্রকল্পটির মেয়াদ ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানোর জন্য প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ তেল-গ্যাস ও খনিজসম্পদ করপোরেশন (পেট্রেবাংলা)। এর কারণ হিসেবে বলা হয়েছেÑ প্রকল্প বাস্তবায়ন এলাকায় চারটি নদী থাকায় তা ক্রসিংয়ের ক্ষেত্রে অনেক সময় ব্যয় হয়েছে। এ ছাড়া মহেশখালীতে ৬০০ এমএমসিএফডি ক্ষমতাসম্পন্ন কাস্টডি ট্রান্সফরমার মিটারিং স্টেশন (সিটিএমএস) এবং আনোয়ারাতে ৬০০ এমএসসিএফডি ক্ষমতাসম্পন্ন সিটি গেট স্টেশন (সিজিএস) স্থাপন কাজের জন্য ভূমি অধিগ্রহণেও সাত মাস বিলম্ব হয়। শুধু তাই নয়, টার্ন-কি ভিত্তিতে সিটিএমসি এবং সিটিএমএস স্থাপন কাজের জন্য নির্মাণ ঠিকাদারের সঙ্গে হওয়া চুক্তি অনুযায়ী কাজ শেষ হবে আগামী ১৬ আগস্ট। কিন্তু ভূমি প্রাপ্তিতে বিলম্ব হওয়ায় সিটিএমসি এবং সিটিএমএস কাজ শেষ করতে চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় প্রয়োজন। এ ছাড়া বিল পরিশোধসহ আনুসাঙ্গিক কাজ শেষ করতে ২০১৮ সালের এপ্রিলে লেগে যাবে। একই সঙ্গে ভূমি অধিগ্রহণ ও উন্নয়ন কাজ বিলম্ব হওয়ায় প্রকল্পের অফিস ভবন, আবাসিক ভবনসহ অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণ করতে ২০১৮ সালের মার্চ পর্যন্ত সময় প্রয়োজন।

এ বিষয়ে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু আমাদের সময়কে বলেছেন, অনেক প্রকল্প আছে যেগুলো লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী শেষ করা যায় না। আবার কিছু কিছু প্রকল্প আছে যেগুলো বাস্তবায়ন করতে গিয়ে নানা জটিলতা তৈরি হয়, তাই সময় বাড়ানো ছাড়া কোনো উপায় থাকে না। মহেশখালী-আনোয়ারা গ্যাস পাইপলাইন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। এর অধিকাংশ কাজ প্রায় শেষ, কিছু বাকি আছে। ফলে সময় বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

মূলত দেশে চলমান গ্যাস সংকটের কারণে সরকার জাহাজযোগে আমাদানি করা এলএনজি গ্যাস এলএনজি টার্মিনাল থেকে রিগ্যাসিফিকেশন করে পাইপলাইনে সরবারহ করবে। এক লাখ ৩৮ হাজার ঘনমিটার ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন এলএনজি টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে পেট্রোবাংলা। ফলে গ্যাসের অভাবে মুখথুবড়ে থাকা শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে নতুন করে প্রাণ ফিরিয়ে দেওয়ার স্বপ্ন দেখছে সরকার।

Loading Facebook Comments ...

Leave a Reply

x

Check Also

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসককে সাঁতার ক্লাবের স্মারকলিপি

পানিতে ডুবে মৃত্যুরোধে স্থানীয় সরকারের স্ব স্ব এলাকায় ঈদের আগে অগ্রিম সর্তকতামুলক ব্যবস্থা গ্রহণে নিদের্শনা ...