বেসরকারি চিকিৎসা সেবার বেহাল দশা

দেশে বেসরকারি চিকিৎসা সেবা নামে চলছে নৈরাজ্য। অপারেশনে নেই কোন নির্দিষ্ট ফি। পাশাপাশি অপারেশন থিয়েটারগুলোর অবস্থাও খুবই বেহাল। এ ছাড়া প্যাথলজি পরীক্ষার কোন রেট নির্ধারণ করা নেই। একেক হাসপাতাল একেক রেট। তা ছাড়া বহু বেসরকারি হাসপাতালে পরীক্ষা না করেই রিপোর্ট দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। বেসরকারি চিকিৎসা সেবার এমনই বেহাল দশার চিত্র উঠে এসেছে দৈনিক ইত্তেফাকের এক প্রতিবেদনে।

গত তিন মাসে র‍্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত রাজধানী ঢাকা ও ঢাকার বাইরে নামি-দামি বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়গনষ্টিক সেন্টারে মিলিয়ে প্রায় ২০০টি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে ১৯৫টিতেই অব্যবস্থাপনার চিত্র দেখা পেয়েছে। প্রত্যেকটিকেই জেল-জরিমানা করেছেন আদালতের ম্যাজিষ্ট্রেট সারওয়ার আলম। এসব অভিযানে আদালত দেখেছেন, মেয়াদ উত্তীর্ণ রি-এজেন্ট দিয়ে প্যাথলজি পরীক্ষা করা হচ্ছে। দেড়-দুই বছর আগেই  যেগুলোর মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। ওই সব হাসপাতালে নিজেরাই হাতে লিখে মেয়াদ বাড়িয়েছে। অথচ এটি খুবই জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের সঙ্গে সম্পৃক্ত একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘অভিযানে আমরা দেখেছি, অপারেশন থিয়েটারে থাকা রাইসটিউব ও ক্যাথেটারও মেয়াদ উত্তীর্ণ। অপারেশনের ওষুধেরও তাই। যন্ত্রপাতিরও একই অবস্থা। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। ওই সব অপারেশন থিয়েটারগুলো নিজেরাই অস্বাস্থ্যকর। ঢাকার নামি-দামি হাসপাতালগুলোর ঢাকার বাইরেও শাখা আছে। সেখানেও পাওয়া গেছে একই চিত্র। ওটি’র যন্ত্রপাতি ব্যবহার অনুপযোগী। এ ছাড়া ইচ্ছেমতো রিপোর্ট ধরিয়ে দেওয়া তো আছেই।’

বেসরকারি হাসপাতালগুলোর এই অনিয়ম দেখার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরের একটি ভিজিলেন্স টিম আছে। তারা কোথাও যান না। কিছুই দেখেন না। অভিযোগ রয়েছে, মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের রাজধানীর নামি-দামি হাসপাতালে সব চিকিৎসাই ফ্রি। ফলে তারা এগুলো দেখেন না। জেলা-উপজেলায় এগুলো দেখার দায়িত্ব বিভাগীয় পরিচালক ও জেলায় সিভিল সার্জনদের। তারাও দেখেন না। অভিযোগ রয়েছে, তারা মাসোহারা পান। এই কারণে চোখের সামনেই এসব অনিয়ম দেখেও তারা চোখ বন্ধ রাখেন।

বেসরকারি হাসপাতালগুলোর এমন অমানবিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘চিকিৎসার নামে এক শ্রেণির বেসরকারি হাসপাতাল অমানবিক কাজ করে, মৃত্যুর দিকে তারা রোগীদের ঠেলে দিচ্ছে। যাদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ আছে তাদের কোন ছাড় দেওয়া হবে না। আমাদের এই অভিযান চলছে-চলবে। আইন অনুযায়িই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এদিকে বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনষ্টিক ওনার্স এসোসিয়েশনের কর্মকর্তারা জানান, সারা দেশে তাদের সদস্য তিন হাজার। অথচ সারাদেশে ১০ হাজারের বেশি বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনষ্টিক সেন্টার রয়েছে। এ প্রসঙ্গে ওনার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মনিরুজ্জামান ভূঁইয়া বলেন, ‘সরকারের পাশাপাশি আমরা সেবা দিয়ে যাচ্ছি। অঅনুমোদিতদের আমরা সমর্থন করি না। যেহেতু আমরা সেবা দেই, তাই সরকারকেও বলব বিষয়টা সহনশীল পর্যায়ে দেখতে। তবে যারা অভিযুক্ত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। কিন্তু সবাইকে অভিযুক্ত করা যাবে না। অনেক হাসপাতালেই ভালো চিকিৎসা হচ্ছে, মানুষ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন।’

Loading Facebook Comments ...

Leave a Reply

x

Check Also

মণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার রয়েছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দুর্গাপূজা উপলক্ষে মহালয়ার মধ্য দিয়ে আজ থেকে শুরু হয়েছে দেবী আগমনের ডামাডোল। দেবী দুর্গা এবার ...