বিক্ষোভের মুখে বারকেলি ইউনিভার্সিটিতে ট্রাম্পপন্থী ব্রেইটবার্ট বার্তা সম্পাদকের অনুষ্ঠান বাতিল

উগ্র-ডানপন্থী বক্তা ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পক্ষে প্রচারণা চালানো অনলাইন সংবাদমাধ্যম ব্রেইটবার্ট-এর বার্তা সম্পাদক মিলো ইয়ানোপোলোসের বক্তব্য রাখার কথা ছিল ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বারকেলিতে। ওই অনুষ্ঠানের প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গন। বিক্ষোভের মুখে বাতিল করা হয় ইয়ানোপোলোসের অনুষ্ঠান। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ছয়জন, ছোড়া হয়েছে বেশ কয়েকটি মলোটভ ককটেল (পেট্রল বোমা)।

বুধবার রাতে ইয়ানোপোলোসের বক্তব্য রাখার কথা ছিল বারকেলির বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গনে। কিন্তু তার আগেই বিক্ষোভকারীরা সহিংস হয়ে উঠলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নির্ধারিত সময়ের দুই ঘণ্টা আগে ওই অনুষ্ঠান বাতিল করে ইয়ানোপোলোসকে ক্যাম্পাসের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়।

এই সহিংস বিক্ষোভের পর জারি করা এক বিবৃতিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ‘সহিংসতা ও আইন বহির্ভূত আচরণকে আমরা দৃঢ়ভাবে নিন্দা জানাই। কারও বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ জানানোর যে রেওয়াজ এই বিশ্ববিদ্যালয়ের রয়েছে, এই ঘটনা তাকে ক্ষুণ্ন করেছে।’

ওই বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘ইয়ানোপোলোসের দৃষ্টিভঙ্গি, কর্মপদ্ধতি এবং উসকানিমূলক বক্তব্যের সঙ্গে আমাদের ভিন্নমত রয়েছে। কিন্তু আমরা সংবিধান, আইন, আমাদের মূল্যবোধ এবং ক্যাম্পাসের মৌলিক নীতি বা সকল পক্ষের মত প্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে দায়বদ্ধ।’

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সহিংসতার জন্য ১৫০ মুখোশ পরা বিক্ষোভকারীকে দায়ী করেছে।

মিলো ইয়ানোপোলোস

উল্লেখ্য, বর্ণবাদী বক্তব্যের জন্য সমালোচিত মিলো ইয়ানোপোলোসের জন্ম গ্রিসে। ম্যানচেস্টার ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করা ইয়ানোপোলোস পরে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন। তিনি উগ্র-ডানপন্থী সংবাদমাধ্যম ব্রেইটবার্ট-এর বার্তা সম্পাদক হিসেবে কাজ করছেন। সংবাদমাধ্যমটি সরাসরি ট্রাম্পের পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে আসছে। এই সংবাদমাধ্যমের সাবেক প্রধান স্টিভ ব্যানন বর্তমানে হোয়াইট হাউসের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছেন।

এদিকে, ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বারকেলিতে সংঘর্ষের সমালোচনায় ফেডারেল অর্থায়ন বন্ধের হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার সকালে টুইটারে দেওয়া এক বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, ‘ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বারকেলিতে যদি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা না থাকে এবং এক ভিন্নধারায় নিরপরাধ মানুষের ওপর সহিংসতার চর্চাই চলতে থাকে, তাহলে তাদের ফেডারেল অর্থায়ন বন্ধ করা হতে পারে।’

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, অন্তত দেড় হাজার বিক্ষোভকারী ক্যাম্পাসের স্প্রল প্লাজায় জড়ো হয়ে ‘বর্ণবাদীদের কোনও নিরাপদ জায়গা নেই’, ‘এটা এক যুদ্ধ’ বলে স্লোগান দেওয়া শুরু করে।

বারকেলি ইউনিভার্সিটিতে বিক্ষোভ

বিক্ষোভকারীরা কয়েকবার পুলিশের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। তারা মলোটভ ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় এবং স্টুডেন্ট ইউনিয়ন সেন্টারের জানালা ভাঙচুর করে। এখানেই ইয়ানোপোলোসের বক্তব্য রাখার কথা ছিল।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখপাত্র ড্যান মগুলফ জানান, সংঘর্ষে অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। ‘ব্ল্যাক ব্লক’ নামে একটি অ্যানার্কিস্ট গ্রুপ ওই সহিংসতার সঙ্গে জড়িত বলেও তিনি জানান।

সহিংস বিক্ষোভকারীরা ইয়ানোপোলোসের জন্য তৈরি মঞ্চ ভেঙে দেয় এবং তার সমর্থকদের ওপরও হামলা চালায়। বক্তব্য শুনতে আসা মানুষদের ওপর পিপার স্প্রে দিয়েও হামলা চালানো হয় বলে সিএনএন জানিয়েছে। বিক্ষোভকারীরা স্থানীয় কয়েকটি ব্যাংকের জানালাও ভাঙচুর করে।

স্থানীয় পুলিশ ক্যাম্পাস থেকে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিলেও, এই ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।

Loading Facebook Comments ...

Leave a Reply

x

Check Also

পায়ে বল লাগায় ‘অদ্ভুত’ রান আউটের শিকার জেসন রয়

জেসন রয়ের ভীষণ আফসোস হচ্ছে নিশ্চয়ই! কাল টন্টনে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ইংলিশ ...