বাঁশখালীতে এস আলম গ্রুপের কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন নিয়ে ফের সংঘর্ষ, নিহত ১

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে এস আলম গ্রুপের কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে মতবিনিময় সভা চলাকালে স্থানীয়দের দুপক্ষের সংঘর্ষে মো. আলী (৩৫) নামে একজন নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হন অন্তত ১৬ জন। বুধবার রাত ৯টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত মো. আলী  বাঁশখালী উপজেলার গন্ডামারা এলাকার বাসিন্দা। তিনি নুরুল মোস্তফা সংগ্রামের অনুসারী। নিহতের ভাই মো. জামান আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিক্যালে ভর্তি আছেন।

এর আগে দুপুর ১টার দিকে, আভাইত্যাঘোনা এলাকায় এস আলম গ্রুপের বিদ্যুৎ প্রকল্প অফিসের সামনে এ সংঘর্ষ হয়।

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক জহিরুল ইসলাম জানান, মো. আলী মাথায় গুরুতর জখম নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলে রাত ৯টার দিকে মারা যান। তার ভাই আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি আছেন। আহত অন্যরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।

বাঁশখালী নির্বাহী অফিসার কাজী মো. চাহেল তোস্তুরী জানান, বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন নিয়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর আয়োজনে আভাইত্যাঘোনা এলাকায় এস আলম গ্রুপের বিদ্যুৎ অফিসের সামনে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে নৌবাহিনী, স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। সভা চলাকালে বিদ্যুৎকেন্দ্রবিরোধী ‘বসতভিটা ও গোরস্থান রক্ষা’ কমিটির আহ্বায়ক গন্ডামারা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী ও বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পক্ষের স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা নুরুল মোস্তফা সংগ্রামের লোকজনের মধ্যে হঠাৎ সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে কমপক্ষে ১৭ জন আহত হয়। পরে হাসপাতালে একজনের মৃত্যু হয়।

‘বসতভিটা ও গোরস্থান রক্ষা’ কমিটির আহ্বায়ক লিয়াকত আলী বলেন, ‘জনগণের সমস্যা প্রশাসনকে জানানোর জন্য আমরা মতবিনিময় সভায় যোগ দিয়েছিলাম। আমরা বিদ্যুৎ প্রকল্প করার ক্ষেত্রে ১২ দফা দাবি জানিয়েছিলাম। সভা চলাকালে হঠাৎ করেই আওয়ামী লীগ নেতা নূরুল ইসলামের লোকজন হামলা চালায়। তখন স্থানীয় লোকজন পাল্টা প্রতিরোধ করতে যায়। সে সময় বেশ কয়েকজন আহত হয়। পরে হাসপাতালে একজনের মৃত্যু হয়।’

নির্বাহী অফিসার আরও জানান, বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি থমথমে আছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

তিনি দাবি করেন, এলাকাবাসী বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প স্থাপনের পক্ষে। কিন্তু আওয়ামী লীগ ও বিএনপির স্বার্থান্বেষী কিছু লোক এ প্রকল্পের বিরোধিতা করছে।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ৪ এপ্রিল ওই বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনকে কেন্দ্র করে গ্রামবাসীদের দু’পক্ষ ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষে চারজন নিহত হন।

Check Also

চিটাগাং চেম্বারের ২০১৭-২০১৮ এবং ২০১৮-২০১৯ মেয়াদকালের জন্য এম. এ. লতিফ এমপি সমর্থিত প্যানেলের মাহবুবুল আলম সভাপতি, মোঃ নুরুন নেওয়াজ সেলিম সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সৈয়দ জামাল আহমেদ সহ-সভাপতি পদে পুনঃনির্বাচিত

দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি‘র ২০১৭-২০১৮ এবং ২০১৮-২০১৯ মেয়াদের সভাপতি, সিনিয়র সহ-সভাপতি ও …

Loading Facebook Comments ...

Leave a Reply