নিষ্পত্তি চেয়ে পুলিশকে যে চিঠি দিয়েছিলেন রাগীব আলী

কোটি টাকার ভূমি আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগে অভিযুক্ত সিলেটের শিল্পপতি রাগীব আলী তার বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে চিঠি লিখে বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তি ও চূড়ান্ত প্রতিবেদন চেয়েছিলেন। ২০১০ সালের ১০ জুন পুলিশকে লেখা সেই চিঠি প্রমাণ হিসেবে আদালতে নথিভুক্তও হয়েছে।

ভূমি আত্মসাৎ ও প্রতারণার মামলায় তখন (২০১০ সালে) তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন সিলেটের কোতোয়ালি থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) খোরশেদ আলম। তাকে পাঠানো চিঠিতে রাগীব আলী চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করার পর ‘ডিসমিস’ করার বিষয়টি অনেকটা নির্দেশের সুরে উল্লেখ করেন। পুলিশকে প্রভাবিত করতে রাগীব আলীর স্বাক্ষরসংবলিত চিঠির কপি সিলেটের মহানগর মুখ্য হাকিম আদালতের বিচারক সাইফুজ্জামান হিরোর আদালতে দাখিল করেন সর্বশেষ তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সিলেটের পরিদর্শক দেওয়ান আবুল হোসেন। এমনকি সেই চিঠিতে রাগীব আলী লিখেন, ‘মোকদ্দমাটি নিষ্পত্তি করার পদক্ষেপ নেওয়া আবশ্যক। অন্যথায় ইহা আদালত অবমাননা হবে।’

আদালতের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁশুলি মাহফুজুর রহমান বাংলা ট্রিবিউন’কে এর সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘মামলাকে প্রভাবিত করতে দুটি মামলার অন্যতম আসামী রাগীব আলী কোতোয়ালি থানার তৎকালীন পুলিশ কর্মকর্তাকে চিঠি দিয়ে দ্রুত নিষ্পত্তি ও চূড়ান্ত প্রতিবেদন চেয়েছিলেন। যা সম্পূর্ণ বেআইনি। পিবিআই দুটি মামলা তদন্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করার পর বিষয়টি সবার নজরে আসে। এই চিঠি মামলায় নথিভুক্ত রয়েছে।’

আদালত সূত্র জানায়, রাগীব আলীর চিঠিটি অতীতে মামলার তদন্তকে প্রভাবিত করার আলামত হিসেবে  আদালতে নথিভুক্ত করা হয়েছে। চিঠির সঙ্গে আদালতে পিবিআই পরিদর্শকের সাক্ষ্য জবানবন্দি আকারে লিপিবদ্ধ করা হয়। আদালতে দাখিল করা রাগীব আলীর ওই চিঠি কম্পিউটারে কম্পোজ করা। ঢাকার গুলশানের (বাড়ি নম্বর ৬, সড়ক নম্বর ৭৬, থানা গুলশান) ও সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার কামালবাজার, তালিবপুরের ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছে।

আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেবোত্তর সম্পত্তির তারাপুর চা-বাগান ১৯৯০ সালে ভুয়া সেবায়েত সাজিয়ে দখল নেন রাগীব আলী। বাগানের একাংশে রাগীব আলী ও তার স্ত্রীর নামে মেডিক্যাল কলেজ ও নার্সিং কলেজ স্থাপন করেন। দেবোত্তর সম্পত্তির চা-বাগান বন্দোবস্ত নেওয়া ও চা-ভূমিতে বিধিবহির্ভূত স্থাপনা করার অভিযোগে ২০০৫ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর সিলেটের তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম আবদুল কাদের বাদী হয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের স্মারক জালিয়াতি ও সরকারের এক হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুটো মামলা দায়ের করেন।

 

Loading Facebook Comments ...

Leave a Reply

x

Check Also

সম্প্রতি ইষ্টল্যান্ড ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী লিমিটেড পক্ষে বন্যা দুর্গত অসহায় মানুষের মধ্যে ত্রান সামগ্রী বিতরণ করা হয়

সম্প্রতি ইষ্টল্যান্ড ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী লিমিটেড পক্ষে কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চলে বন্যা দুর্গত অসহায় ...