ট্রাম্পের চরমপন্থা বিরোধী কর্মসূচির মূল ফোকাস ইসলাম

সব ধরনের সহিংস মতাদর্শ মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র সরকারের একটি কর্মসূচিকে শুধু ‘ইসলামী চরমপন্থা’ বিরোধী কর্মসূচিতে পরিণত করতে চাচ্ছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন।

বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে ট্রাম্প প্রশাসনের এ পরিকল্পনার বিষয়ে পাঁচজন ব্যক্তি জানিয়েছেন।

সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, বর্তমানের ‘কাউন্টারিং ভায়োলেন্ট এক্সট্রিমিজম’ (সিভিই) তথা সহিংস চরমপন্থা প্রতিরোধ কর্মসূচির নাম পরিবর্তন করে ‘কাউন্টারিং ইসলামিক এক্সট্রিমিজম’ তথা ইসলামী চরমপন্থা বা ‘কাউন্টারিং রেডিক্যাল ইসলামিক এক্সট্রিমিজম’ রাখা হবে।

ফলে যুক্তরাষ্ট্রে বোমা ও বন্দুক হামলায় জড়িত শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে এ কর্মসূচি আর ব্যবহার করা যাবে না।

এই পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে নির্বাচনী প্রচারণাকালে ট্রাম্প যে মনোভাব ব্যক্ত করেছিলেন তার প্রতিফলন ঘটলো। ওই সময় তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে ইসলামিক স্টেট (আইএস বিরোধী লড়াইয়ে শৈথল্য প্রদর্শন এবং এ গোষ্ঠীটির কথা উল্লেখের ক্ষেত্রে ‘ইসলামী চরমপন্থা’ বাক্য বন্ধ ব্যবহার না করার জন্য অভিযুক্ত করছিলেন। এরইমধ্যে আইএস বিভিন্ন দেশে সাধারণ মানুষের ওপর হামলার দায় স্বীকার করেছে।

সিভিই কর্মসূচির আওতায় কমিউনিটি অংশীদারিত্ব এবং শিক্ষা কর্মসূচির মাধ্যমে উগ্র বিভিন্ন গোষ্ঠী ও সম্ভাব্য হামলাকারীদের শনাক্ত করা হয়।

এছাড়া উগ্রপন্থার বিরুদ্ধে গুগল-ফেসবুকের মতো প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় পাল্টা বার্তা প্রচার করা হয় এ কর্মসূচির আওতায়।

এদিকে কর্মসূচিটির নাম বদলানোর পর মুসলিম সম্প্রদায়ের সঙ্গে এর আওতায় সরকারের কাজ করা কঠিন হয়ে যাবে বলে আশংকা জানিয়েছে কর্মসূচিটির কয়েকজন পরামর্শক।

এরইমধ্যে ট্রাম্পের নতুন প্রশাসনের ব্যাপারে মুসলমানরা দ্বিধান্বিত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে শুক্রবার মুসলিম প্রধান সাতটি দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ট্রাম্প নির্বাহী আদেশ জারির পর পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।

অনলাইনে চরমপন্থা মোকাবিলায় সামরিক বাহিনীর যে প্রচেষ্টা চলছে তা থেকে সিভিই কর্মসূচি একেবারেই আলাদা। এতে মূলতঃ যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারীদের ওপর ফোকাস করা হয়। কর্মসূচিটির বিরুদ্ধে অনেকেই সমালোচনা মুখর, এমনকি এর কয়েকজন সমর্থকও একে অকার্যকর অভিহিত করে থাকেন।

যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা দফতরের (হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট-ডিএইচএস) সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেন এমন একটি সূত্র জানিয়েছে, ট্রাম্পের ট্রাঞ্জিশনাল টিম প্রথমবারের মতো গত ডিসেম্বরে সিভিই টাস্কফোর্সের সঙ্গে বৈঠকে বসে। তখন কর্মসূচিটির নাম এবং ফোকাস পরিবর্তনের পরিকল্পনার বিষয়ে আলোচনার হয়।

গত বৃহস্পতিবার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তামন্ত্রী জন কেলির সঙ্গে সিনিয়র কর্মকর্তাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সিভিই কর্মসূচির অনুদান দেয়ার জন্য শুধু নির্দিষ্ট একটি সম্প্রদায়ের সংগঠনকে বেছে নেয়ার ব্যাপারে কর্মকর্তাদের যৌক্তিকতা তুলে ধরতে বলা হয় বলে জানিয়েছে একটি সূত্র। তবে এ আলোচনার বিষয়বস্তু স্পর্শকাতর হওয়ায় সূত্র তার নাম প্রকাশ করেননি।

এদিকে সিভিই কর্মসূচির জন্য এরইমধ্যে মার্কিন কংগ্রেস তহবিল  বরাদ্দ করেছে। আর বিদায়ী ওবামা প্রশাসনের শেষ দিনগুলোতে এ তহবিল থেকে অনুদান পাওয়ার বিষয়টি গ্রহীতাদের জানানোও হয়েছে। কিন্তু বরাদ্দের সেই অর্থ এখনও ছাড় করা হয়নি। বরং অনুদান প্রদানের বিষয়টি জন কেলি পর্যালোচনা করছেন বলে  জানিয়েছে সূত্র।

রয়টার্স জানিয়েছে, এ বিষয়ে ডিএইচএস কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। অন্যদিকে মন্তব্যের জন্য অনুরোধ করলেও হোয়াইট হাউজ এতে সাড়া দেয়নি।

কয়েকজন রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান দীর্ঘদিন ধরেই সিভিই কর্মসূচিকে রাজনৈতিক সঠিকতা এবং অকার্যকারতার বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিয়ে আসছেন।
তাদের দাবি, ইসলামী চরমপন্থাকে আলাদা করে ‘র‌্যাডিকাল ইসলাম’ টার্ম ব্যবহার করলে তা বহু সহিংস আক্রমণকে নিরুৎসাহিত করতে সহযোগিতা করতো।

তবে অন্যদের মতে, র‌্যাডিকাল ইসলামের ব্র্যান্ডিংয়ের সমস্যা হলো এটি শান্তিপূর্ণভাবে ইসলাম পালনকারী ৩০ লাখেরও বেশি আমেরিকানকে শুধু বিচ্ছিন্ন করার কাজই করবে।

এদিকে অনেক কমিউনিটি গ্রুপ এরইমধ্যে সিভিই কর্মসূচির বিরুদ্ধে সতর্ক প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আসছেন। বিশেষ করে এ কর্মসূচির ফলে আইনশৃংখলা বাহিনীর নজরদারির মাত্রা দ্বিগুণ হয়ে যাওয়া নিয়ে তারা উদ্বেগ জানিয়ে আসছেন।

মুসলিম পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিলের পরিচালক হুদা হাওয়া বলেছেন, ডিএইচএসের কর্মকর্তারা তাকে জানিয়েছেন সিভিই কর্মসূচির ফোকাস সব ধরনের সহিংস মতাদর্শ থেকে সরিয়ে শুধু ইসলামী চরমপন্থার দিকে নেয়ার একটি পদক্ষেপ নিয়ে তৎপরতা চলছে।

তিনি বলেন, এটি আমাদের জন্য উদ্বেগের ব্যাপার কারণ তারা একটি নির্দিষ্ট বিশ্বাসের লোকদের টার্গেট করছে এবং এর ফলে সন্দেহ-সংশয় ছড়িয়ে পড়বে।

আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, গত সপ্তাহে হোমল্যান্ড সিকিউরিটির দফতরের একজন কর্মকর্তা বলেছেন সিভিইর নাম পরিবর্তন করা হবে।  অন্য তিনটি সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলে, ঠিক এমন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কিন্তু এটি চূড়ান্ত হয়েছে কি না তা নিশ্চিত করতে পারেননি তারা।

Loading Facebook Comments ...

Leave a Reply

x

Check Also

বাংলাদেশে আসার আগে প্রস্তুতি ম্যাচে বড় জয় ওয়ার্নারদের

বাংলাদেশ সফরের আগে তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছেন অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটাররা। দুই দলে বিভক্ত হয়ে। লড়াইটা ...