চট্টগ্রামে দুর্নীতিবাজ ১১ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু

কাস্টম হাউসের ১১ অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে অনুন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এরফলে চট্টগ্রাম কাস্টমের অন্যান্য কর্মকর্তারাও দুদক আতঙ্কে ভুগেছেন। বৃহস্পতিবার দৈনিক যুগান্তরের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

কয়েকজন দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার তালিকা করে তাদের বিরুদ্ধে অনুন্ধান শুরু করেছে দুদক। প্রাথমিকভাবে এ সংখ্যা ১১ এর অধিক বলে জানা গেছে। এদের মধ্যে যুগ্ম কমিশনার, উপ-কমিশনার এবং সহকারী কমিশনার পর্যায়ের চারজন ক্যাডার কর্মকর্তাও রয়েছেন। এসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই গোপন অনুসন্ধান ছাড়াও নজরদারি শুরু করেছে দুদক।

দৈনিক যুগান্তরের বিশেষ প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে- গত সোমবার দুদক কমিশনারের নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী টিম কাস্টম হাউস আকস্মিক পরিদর্শন করে। দুদক টিমের আকস্মিক কাস্টম হাউসে এলে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক এমন ক্যাডার ও ননক্যাডার কর্মকর্তাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

সেখানে দুদক কমিশনার সবাইকে হুশিয়ার করে দিয়ে বলেন, দুর্নীতির সঙ্গে যেসব কাস্টম কর্মকর্তা জড়িত তাদের কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না। এমন কড়া বার্তার পর সবাই নড়েচড়ে বসেছে। কাস্টম হাউসে প্রবেশে আরোপ করা হয়েছে কড়াকড়ি। প্রকাশ্যে ঘুষ গ্রহণের ক্ষেত্রে অতিমাত্রায় সতর্ক রয়েছেন অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নজিরবিহীনভাবে মঙ্গলবার আমদানি শাখায় প্রকাশ্যে ঘুষ লেনদেন বন্ধ ছিল। এতে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন একাধিক আমদানিকারক এবং সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট।

এদিকে ঘুষ গ্রহণের টিভি ফুটেজ দেখে তাৎক্ষণিক বরখাস্ত সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মনির আহমেদ ও উত্তম কুমারের নামে বেনামে অবৈধ সম্পদের খোঁজখবর নিতে শুরু করে দুদক। তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরেরও প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে আরও কয়েকজন দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার তালিকা করে তাদের বিষয়েও অনুসন্ধান শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে দুদকের দায়িত্বশীল সূত্র।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা বলছেন, কোনো চুনোপুঁটি নয়; কাস্টম হাউসের ঘুষ গ্রহণকারী রাঘবোয়ালদের গ্রেফতার করতে হবে। কঠিন শাস্তির মুখোমুখি করতে হবে। এসব কর্মকর্তা রাজস্ব আদায়ের নামে রীতিমতো লুটপাট করেছে। দুদকের নজরদারি অব্যাহত থাকলে দেশের সবচেয়ে বেশি রাজস্ব প্রদানকারী সংস্থা এই কাস্টম হাউসের চিত্র পাল্টাতে পারে। তারা বলেন, কাস্টমস কর্মকর্তাদের সঙ্গে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট বা অসাধু আমদানিকারকদের সিন্ডিকেটকে চিহ্নিত করা জরুরি। এ ছাড়া কাস্টম হাউসে দুদকের অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের অনেক নেতা। তারা বলছেন, ওই অভিযানের পর থেকে খুব আতঙ্কে আছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। কাউকেই স্বতঃস্ফূর্ত মনে হচ্ছে না।

গত মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে গিয়ে দেখা গেছে, নিরাপত্তা রক্ষীরা বেশ তৎপর। পরিচিতি কার্ড ছাড়া বা পূর্ব অনুমতি ছাড়া কাউকেই প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। কাস্টমসের অভ্যন্তরে বিভিন্ন আমদানি শাখায় কর্মকর্তারা ফাইলে স্বাক্ষর করছেন ঠিকই, তবে সবার চোখে-মুখেই ছিল আতঙ্কের ছাপ। এদিকে কাস্টমসের শীর্ষ কর্মকর্তারাও করণীয় নির্ধারণে দফায় দফায় বৈঠক করছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে করছেন নানা শলা-পরামর্শ। তবে কাস্টমস কমিশনারের অনুমতি ছাড়া কোনো কর্মকর্তাই কোনো কথা বলতে নারাজ।

সোমবার ২০১৭ সালকে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের জন্য আতঙ্কের বছর বলেও মন্তব্য করেন দুদক কমিশনার (তদন্ত) এএফএম আমিনুল ইসলাম। দুদকের ১১ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের টিমের নজিরবিহীন পরিদর্শনের ঘটনা কাস্টম হাউসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছে অবিশ্বাস্যই মনে হচ্ছে।

Check Also

রাত ১২টার পর সুপ্রিম কোর্টের সামনে থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বিতর্কিত ভাস্কর্যটি !…

রাত ১২টার পর সুপ্রিম কোর্টের সামনে থেকে ন্যায়ের প্রতীক ভাস্কর্যটি সরিয়ে নেওয়া হলে সামাজিক যোগাযোগ …

Loading Facebook Comments ...

Leave a Reply