ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান পরিচালনা পর্ষদে আছেন যারা – বিস্তারিত পরিচয়

একের পর এক সাফল্যের রেকর্ড গড়ে এগিয়ে যাচ্ছে ইসলামী ব্যাংক। উপরন্তু ব্যাংকটির নবগঠিত পরিচালনা পর্ষদ এ সাফল্যের ধারাবাহিকতাকে আরও সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবে- এমন ধারণা ও প্রত্যাশা ইসলামী ব্যাংকের লাখ লাখ গ্রাহকের। কেননা, ব্যাংকটির চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে ভাইস চেয়ারম্যান ও পরিচালকদের প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থানে সফলতার অনেক স্বাক্ষর রেখেছেন। যাদের পরিচিতি নিচে তুলে ধরা হল-
আরাস্তু খান, চেয়ারম্যান
আরাস্তু খান ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান। এর আগে তিনি বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের চেয়ারম্যান এবং আইএফআইসি ব্যাংক, কর্মসংস্থান ব্যাংক ও অগ্রণী ব্যাংকের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আরাস্তু খান পরিকল্পনা কমিশনের সচিব ছিলেন। ২০০১ সাল থেকে তিনি অর্থ মন্ত্রণালয়ে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন। জাতীয় বাজেট প্রণয়ন প্রক্রিয়া এবং আইএমএফের সহযোগী কয়েকটি প্রকল্পে তিনি গুরুদায়িত্ব পালন করেন। সুযোগ্য এই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ১৯৮২ সালে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে যোগদান করেন। তিনি আইএমএফের সিঙ্গাপুর ট্রেনিং ইন্সটিটিউট, অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ও যুক্তরাষ্ট্রের জন এফ কেনেডি স্কুল অব গভর্নমেন্ট থেকে পেশাগত প্রশিক্ষণ লাভ করেন। এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএসএস ডিগ্রি এবং যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স ইন পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এমপিএ) ডিগ্রি অর্জন করেন। জন্মগ্রহণ করেন ১৯৫৬ সালে মানিকগঞ্জ জেলায়।
ইউসিফ আবদুল্লাহ আল-রাজী, ভাইস চেয়ারম্যান
ইউসিফ আবদুল্লাহ আল-রাজী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের ভাইস চেয়ারম্যান এবং অন্যতম বিদেশী পরিচালক। তিনি সৌদি আরবের আল-রাজী কোম্পানি ফর ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড ট্রেডের প্রতিনিধি হিসেবে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক। বর্তমানে তিনি এই সৌদি কোম্পানির ভাইস চেয়ারম্যান। ১৯৯৬ সালে তিনি ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার পদে এ প্রতিষ্ঠানে যোগদান করেন। এ ছাড়া তিনি আরেকটি সৌদি কোম্পানি আরবসাস ট্রাভেল অ্যান্ড টুরিস্ট এজেন্সির ভাই চেয়ারম্যান। সৌদি নাগরিক ইউসিফ আবদুল্লাহ আল-রাজী ১৯৯১ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্টার্ন মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উন্নয়ন প্রশাসনে এমএ ডিগ্রি এবং ১৯৮৬ সালে সৌদি আরবের কিং সউদ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ ডিগ্রি লাভ করেন।
প্রফেসর সৈয়দ আহসানুল আলম, ভাইস চেয়ারম্যান
প্রফেসর সৈয়দ আহসানুল আলম ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান ও স্বতন্ত্র পরিচালক। ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ বিষয়ে নেতৃস্থানীয় বিশেষজ্ঞ প্রফেসর আলম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের সিনিয়র অধ্যাপক ও সাবেক চেয়ারম্যান। তিনি সাধারণ বীমা কর্পোরেশন এবং রূপালী ব্যাংকের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি ব্যুরো অব ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড ইকোনমিক রিসার্চের চেয়ারম্যান এবং চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজের সিভিল স্পন্সর এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের সদস্য।
মেজর জেনারেল (অব.) ইঞ্জিনিয়ার আবদুল মতিন, পরিচালক
মেজর জেনারেল (অব.) ইঞ্জিনিয়ার আবদুল মতিন ব্যাংকের এক্সিকিউটিভ কমিটির চেয়ারম্যান। তিনি ২০১৪ সাল পর্যন্ত সেনাবাহিনীতে মাস্টার জেনারেল অব অর্ডিন্যান্স, আর্মি হেডকোয়ার্টার ও প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারসহ বিভিন্ন পদমর্যাদায় দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৮ সালে তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন। তিনি জাতীয় স্মার্ট পরিচয়পত্র প্রস্তুতি কমিটির চেয়ারম্যানসহ বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন, বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি, বাংলাদেশ অর্ড্যান্স ফ্যাক্টরি, বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি ও বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসসহ বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে নীতিনির্ধারণী ভূমিকা পালন করেন।
ড. মো. জিল্লুর রহমান, পরিচালক
ড. মো. জিল্লুর রহমান স্বতন্ত্র পরিচালক এবং ব্যাংকের অডিট কমিটির চেয়ারম্যান। এর আগে তিনি বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের এমডি ছিলেন। দীর্ঘ ব্যাংকিং ক্যারিয়ারে ড. রহমান জনতা ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক ও বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে বিভিন্ন পদমর্যাদায় দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)-এর ডিরেক্টর এবং বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের ডিরেক্টর ও অডিট কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন। ১৯৮০ সালে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে প্ল্যানিং অ্যান্ড রিসার্চ অফিসার হিসেবে ব্যাংকিং ক্যারিয়ার শুরু করেন। এ ছাড়া তিনি বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) এবং ইন্সটিটিউট অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (আইবিবি)-এর এক্সিকিউটিভ কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। জিল্লুর রহমান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ক্রেডিট ম্যানেজমেন্টে পিএইচডি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবস্থাপনায় মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন।
মো. আবদুল মাবুদ, পিপিএম, পরিচালক
মো. আবদুল মাবুদ ইসলামী ব্যাংকের রিস্ক ম্যানেজমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান ও স্বতন্ত্র পরিচালক। তিনি বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক ছিলেন। বহির্গমন ও পাসপোর্ট ডিপার্টমেন্টের মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৭১ সালে তিনি মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। ১৯৭৩ সাল থেকে দেশের পুলিশ বিভাগে বিভিন্ন পদমর্যাদায় দায়িত্ব পালন করেন। পেশা ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি প্রেসিডেন্ট পুলিশ মেডেল-২০০০ পদকে ভূষিত হন। তিনি বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সদস্য এবং বাংলাদেশ ক্যান্সার সমিতির আজীবন সদস্য। এ ছাড়া তিনি অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।
হেলাল আহমদ চৌধুরী, পরিচালক
হেলাল আহমদ চৌধুরী ইসলামী ব্যাংকের স্বতন্ত্র পরিচালক। তিনি ২০০৬-১৪ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ৯ বছর পূবালী ব্যাংকের এমডি ছিলেন। তিনি ১৯৭৭ সালে প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তা হিসেবে পূবালী ব্যাংকে যোগদান করেন এবং বিভিন্ন পদমর্যাদায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে একই ব্যাংকে প্রধান নির্বাহী হওয়ার বিরল রেকর্ড অর্জন করেন। ব্যাংকিং ক্যারিয়ারে চার দশকের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন হেলাল আহমদ চৌধুরী বর্তমানে বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের সুপারনিউমারারি প্রফেসর হিসেবে কাজ করছেন। তিনি ইন্সটিটিউট অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের একজন ডিপ্লোমায়েড সদস্য। ১৯৮৬-৮৭ সালে বিসিসিআই ও তৎকালীন সোনালী ব্যাংক লন্ডন, থেকে তিনি বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ লাভ করেন। তিনি যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড ও ক্যামব্রিজ ইউনিভার্সিটি এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউসি বার্কলে ও কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটিসহ বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি কোর্স ও প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।
সামিম মোহাম্মদ আফজাল, পরিচালক
সামিম মোহাম্মদ আফজাল ব্যাংকের স্বতন্ত্র পরিচালক। বর্তমানে তিনি ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি সিলেটে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক ছিলেন। ১৯৮৩ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত তিনি জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে বিচারিক দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া তিনি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল কোর্ট ও আইন মন্ত্রণালয়ে আইন কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন। এলএলএম ডিগ্রি অর্জন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।
বোরহান উদ্দিন আহমেদ, পরিচালক
বোরহান উদ্দিন আহমেদ ব্যাংকের স্বতন্ত্র পরিচালক। তিনি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিটের (সিপিটিইউ) একজন প্যানেল সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ১৯৮৫ সালে সহকারী জজ হিসেবে দেশের বিচার বিভাগে যোগদান করেন এবং জেলা ও দায়রা জজসহ বিভিন্ন পদমর্যাদায় দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর এবং এলএলএম ডিগ্রি অর্জন করেন।
মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির, এফসিএ, পরিচালক
মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির ব্যাংকের স্বতন্ত্র পরিচালক। বর্তমানে তিনি নিউ ঢাকা ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড এবং শাইনপুকুর সিরামিকস লিমিটেডের সিইও। তিনি সাধারণ বীমা কর্পোরেশন, বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেড, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ লিমিটেড ও ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির পরিচালক ছিলেন। বর্তমানে বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশন ও বাংলাদেশ জুট স্পিনারস অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের এডিআরের ফ্যাসিলিটেটর ও এফবিসিসিআইয়ের বিভিন্ন কমিটির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। দেশের প্রতিষ্ঠিত চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট হিসেবে হুমায়ুন কবির ১৯৮১ সাল থেকে বিভিন্ন সিএ ফার্ম, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করছেন। তিনি ইন্সটিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএবি)-এর ফেলো এবং এর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ইন্সটিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস ও ইন্সটিটিউট অব ইন্টারনাল অডিটরসের সদস্য হুমায়ুন কবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অ্যাকাউন্টিংয়ে বিকম (অনার্স)-সহ এমকম ডিগ্রি লাভ করেন এবং যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইন্টারন্যাশনাল ক্যাপিটাল মার্কেটের ওপর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। ব্যবসা-বাণিজ্যে গুরত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি কমার্শিয়ালি ইম্পোর্টেন্ট পারসন (সিআইপি) ও জাতীয় পরিবেশ পদক লাভ করেন।
ড. আরিফ সুলেমান, পরিচালক
ড. আরিফ সুলেমান ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক (আইডিবি), সৌদি আরবের প্রতিনিধি হিসেবে ব্যাংকের পরিচালক। তিনি ২০১৩ সালের মার্চ থেকে এ ব্যাংকের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে তিনি আইডিবির ইকোনমিক রিচার্স অ্যান্ড পলিসি ডিভিশনে স্ট্র্যাটেজি ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত। দক্ষিণ আফ্রিকান নাগরিক ড. সুলেমান ১৯৯৪-২০০৩ কালপর্বে নিজ দেশের ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনে কাজ করেন। তিনি সে দেশের কোয়াজুলু-নাতাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করে সেখানেই ১৯৯৩ সালে শিক্ষকতায় যোগ দেন। তিনি ইউনিভার্সিটি অব সাউথ আফ্রিকা থেকে বিজনেস লিডারশিপে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন।
প্রফেসর ড. কাজী শহিদুল আলম, পরিচালক
প্রফেসর কাজী শহিদুল আলম পেশায় অর্থোপেডিক সার্জন। ড. আলম বর্তমানে আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ, ঢাকায় অধ্যাপক হিসেবে কাজ করছেন। তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ, নিটোর (পঙ্গু হাসপাতাল), বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল, স্বাস্থ্য অধিদফতরসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে নানা পদমর্যাদায় দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল কলেজ অব সার্জন থেকে অর্থোপেডিক সার্জারিতে এমএস এবং ইউনিভার্সিটি অব ভিয়েনা থেকে ডক্টরেট ইন অর্থোপেডিক সার্জারি ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি পোস্ট-গ্র্যাজুয়েট ডক্টর’স সোসাইটি অব বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং বাংলাদেশ রোগী কল্যাণ ফাউন্ডেশনের সভাপতি। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।
মো. সাইফুল ইসলাম, এফসিএ, এফসিএমএ, পরিচালক
মো. সাইফুল ইসলাম, এফসিএ, এফসিএমএ চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্সি ফার্ম ইউএইচওয়াই সাইফুল শামসুল আলম অ্যান্ড কোং-এর ম্যানেজিং পার্টনার। তিনি সাউথ এশিয়ান ফেডারেশন অব অ্যাকাউন্ট্যান্টস, কনফেডারেশন অব এশিয়ান অ্যান্ড প্যাসিফিক অ্যাকাউন্ট্যান্টস এবং ইন্সটিটিউট অব কস্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বিষয়সংক্রান্ত কমিটির সভাপতি এবং ইন্সটিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্টস অব বাংলাদেশের সাবেক সভাপতি। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানির পরিচালক। রূপালী ব্যাংক, খুলনা ওয়াসা, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ, বাংলাদেশ ক্যাবল শিল্প সংস্থাসহ একাধিক জাতীয় প্রতিষ্ঠানে তার নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে দায়িত্ব পালনের বিস্তর অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিকম (অনার্স) এবং অ্যাকাউন্টিংয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি লাভের পর চার্টার্ড অ্যাকাউন্টিংয়ে এফসিএ, এফসিএমএ এবং যুক্তরাজ্য থেকে কস্ট এক্সিকিউটিভ অ্যাকাউন্ট্যান্ট (এসিইএ) ও লন্ডন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাকাউন্ট্যান্ট (এফএলসিসিআইএ) ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি আইসিএবি, আইসিএমএবিএ ও যুক্তরাজ্যের কস্ট এক্সিকিউটিভ অ্যাকাউন্ট্যান্সির ফেলো।
মো. জয়নাল আবেদীন, পরিচালক
মো. জয়নাল আবেদীন বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ও রূপালী ব্যাংকে উপব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং জনতা ব্যাংকে মহাব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করা আবেদীন ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে প্রবেশনারি অফিসার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। এ ছাড়া তিনি ইন্সটিটিউট অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের ডিপ্লোমায়েডসহ একাধিক প্রতিষ্ঠানের সদস্য এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন।
মো. মিজানুর রহমান, পরিচালক
মো. মিজানুর রহমান সহকারী জজ হিসেবে ১৯৮৩ সালে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৯৭-২০১৫ সাল পর্যন্ত জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ছিলেন ঢাকার শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনাল এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচার। আইন মন্ত্রণালয়ের অধীন নিবন্ধন অধিদফতরে ডেপুটি সলিসিটর (রিট) হিসেবেও কাজ করেন। তিনি ১৯৮২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলএম ডিগ্রি লাভ করেন।
প্রফেসর ড. সিরাজুল করিম, পরিচালক
প্রফেসর ড. মো. সিরাজুল করিম ১৯৬৮ সালে কর্ণফুলী পেপার মিলে ক্যামিস্ট হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পাকিস্তান কাউন্সিল অব সায়েন্টিফিক অ্যান্ড রিসার্চে রিসার্চ কেমিস্ট হিসেবে দু’বছর দায়িত্ব পালন করেন। এরপর তিনি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন এবং ২০০৯ সাল পর্যন্ত অধ্যাপনা করেন। বর্তমানে তিনি বেসরকারি প্রাইম এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফলিত রসায়নে অনার্সসহ এমএসসি এবং পরবর্তী সময়ে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি সুইডেনের কার্লস্ট্যাড বিশ্ববিদ্যালয়ের পোস্ট-গ্র্যাজুয়েট ফেলো। ড. সিরাজুল করিম গেস্ট সায়েন্টিস্ট ও ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে জার্মানির ডার্মস্ট্যাড বিশ্ববিদ্যালয়, সুইডেনের কার্লস্ট্যাড বিশ্ববিদ্যালয় ও ফিনল্যান্ডের আবো একাডেমি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। তিনি পাল্পিং অ্যান্ড ব্লিচিংয়ে কয়েকটি পদ্ধতির উদ্ভাবক।
অধ্যাপক ড. মো. নাজমুল হাসান, পরিচালক
অধ্যাপক ড. মো. নাজমুল হাসান ব্যাংকের স্বতন্ত্র পরিচালক। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক। ড. হাসান ১৯৭৫ সালে এ ইন্সটিটিউটে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন এবং ১৯৯৩ সালে অধ্যাপক পদে উন্নীত হন। ২০০৬-০৯ মেয়াদে তিনি এ ইন্সটিটিউটের পরিচালক ছিলেন। ড. হাসান ওয়াশিংটনের ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিসার্চ ইন্সটিটিউট, ইউরোপীয় ইউনিয়নের মিনিস্ট্রি অব হিউম্যানিটারিয়ান, বিশ্বব্যাংক ও ড্যানিডা নামক জার্মান টেকনিক্যাল কোম্পানিতে পরামর্শক হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ব্রাউন ইউনিভার্সিটির পপুলেশন স্টাডিজ অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার এবং সুইডেনের দ্য রয়্যাল ভেটেরিনারি অ্যান্ড এগ্রিকালচারাল ইউনিভার্সিটির রিসার্চ ডিপার্টমেন্ট অব হিউম্যান নিউট্রিশনে ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে যোগ দিয়েছেন। তিনি নিউইয়র্কের কর্নেল ইউনিভার্সিটির কর্নেল ফুড সিস্টেমস ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টে পরামর্শক হিসেবে কাজ করেছেন। ড. হাসান অর্থনীতিতে এমএ, কৃষি অর্থনীতিতে এমএস এবং উন্নয়ন অর্থনীতি (পুষ্টি)-তে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দীন, পরিচালক
অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দীন ব্যাংকের স্বতন্ত্র পরিচালক। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ ও ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস বিভাগের অধ্যাপক। ২০০৫ সালে তিনি সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে এ বিভাগে যোগ দেন। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগে ১৯৯৩ সালে প্রভাষক হিসেবে পেশাজীবন শুরু করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মার্কেটিংয়ে মাস্টার্স এবং জাপানের ওসাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উন্নয়ন অর্থনীতিতে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি যুক্তরাজ্যের ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় এবং জাপানের কোয়োতে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পেশাগত কোর্স সম্পন্ন করেন।
মো. কামাল হোসেন গাজী, পরিচালক
মো. কামাল হোসেন গাজী ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)-এর প্রতিনিধি হিসেবে ব্যাংকের পরিচালক। তিনি আইসিবির মহাব্যবস্থাপক। তিনি ১৯৮৭ সালে সিনিয়র অফিসার হিসেবে ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ-এ যোগ দেন এবং বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ইন্সটিটিউট অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের ডিপ্লোমায়েড অ্যাসোসিয়েট। মো. কামাল হোসেন গাজী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসহ মার্কেটিংয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।
মো. আবদুল হামিদ মিয়া, ম্যানেজিং ডিরেক্টর
মো. আবদুল হামিদ মিয়া ব্যাংকের এক্স-অফিসিও ডিরেক্টর। তিনি চলতি বছরের জানুয়ারিতে এমডি ও সিইও হিসেবে ইসলামী ব্যাংকে যোগ দেন। এর আগে ইউনিয়ন ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক ও বিডিবিএলের এমডি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৭৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইন্সটিটিউটে গবেষণা কর্মকর্তা হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। এ ছাড়া ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ, আরিফ হাবিব ব্যাংক লিমিটেড, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ক্যাপিটাল অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের পরিচালক ছিলেন। পরে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ টি বোর্ড, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক ও অগ্রণী ব্যাংকে বিভিন্ন পদমর্যাদায় দায়িত্ব পালন করেন। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে মাস্টার্স এবং যুক্তরাজ্যের ব্র্যাডফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উন্নয়ন অর্থনীতিতে এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন।

Loading Facebook Comments ...

Leave a Reply

x

Check Also

গাজীপুরে বকেয়া পরিশোধের দাবিতে শ্রমিক বিক্ষোভ স্মারকলিপি

মুহাম্মদ আতিকুর রহমান (আতিক), গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি ঃ গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের পূবাইলের করমতলা এলাকায় ডিএসএল ...