আক্ষেপ ঘোচালো ভারত

চারটি দ্বিপক্ষীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেললেও এর আগে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কখনও সিরিজ জেতা হয়নি ভারতের। তিন ম্যাচের চলতি সিরিজে কানপুরে প্রথম ম্যাচে ৭ উইকেটে জিতে এগিয়ে ছিল ইংলিশরাই। তবে নাগপুরে দ্বিতীয় ম্যাচে পাঁচ রানে জিতে নিয়ে সমতা আনে ভারত। শেষ ম্যাচ তাই রুপ নিয়েছিল অলিখিত ফাইনালে।

বুধবার বেঙ্গালুরুরএম চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে সিরিজ নির্ধারনী ম্যাচে ইংল্যান্ডকে ৭৫ রানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি সিরিজে ইংল্যান্ডকে হারায় বিরাট কোহলির দল। সেই সঙ্গে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কখনও দ্বিপক্ষীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিততে না-পারার আক্ষেপ ঘোচাল ভারত।

এদিন টসে জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে মহেন্দ্র সিং ধোনি ও সুরেশ রায়নার জোড়া হাফসেঞ্চুরির ওপর ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ২০২ রানের বড় সংগ্রহ দাঁড় করায় স্বাগতিকরা। জবাবে লেগ স্পিনার যুবেন্দ্র চাহালের ঘুর্ণিতে বিপাকে পড়ে সফরকারীরা। মাত্র ১২৭ রানেই গুটিয়ে যায় সফরকারী ইংল্যান্ড। ৭৫ রানে এই ম্যাচ জিতে নিয়ে সিরিজ নিশ্চিত করলো ভারত।

বড় রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইংলিশদের শুরুটা ভালো হয়নি। দলীয় আট রানেই চাহালের প্রথম শিকার হয়ে সাজঘরে ফেরেন ওপেনার স্যাম বিলিংস। এরপর জেসন রয় ও জো রুট প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। ব্যক্তিগত ৩২ রানে অমিত মিশ্রর বলে স্ট্যাম্পিংয়ের ফাঁদে পড়লে ভাঙ্গে তাদের ৪৭ রানের জুটি।

এরপর রুটকে সঙ্গ দিতে থাকেন ইয়ন মরগান। এদুজনের ব্যাট থেকে আসে ৬৪ রানের জুটি। পরপর দুই বলে রুট ও মরগানকে ফিরিয়ে ভারতকে খেলায় ফিরিয়ে আনেন চাহাল। আউট হওয়ার আগে রুট করেন ৪২ আর মরগান ৪০ রান। এরপর স্কোরবোর্ডে মাত্র আট রান যোগ করতেই আট উইকেট হারায় সফরকারীরা।

ব্যক্তিগত চতুর্থ ও শেষ ওভারে স্টোকস, মঈন আলী এবং জর্ডানকেও ফিরিয়ে দেন এই লেগস্পিনার। এরপরের ওভারে জাসপ্রিত বুমরাহ তিন বলের ব্যবধানে দুই উইকেট তুলে নিলে ১২৭ রানেই গুটিয়ে যায় সফরকারীদের ইনিংস। চাহাল চার ওভার বল করে মাত্র ২৫ রানের বিনিময়ে ইংলিশদের ছয় উইকেট তুলে নিয়ে জেতেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার।

এর আগে, ভারতের শুরুটাও ভালো হয়নি। দলীয় চার রানেই অধিনায়ক কোহলি রান আউটেবিপাকে পড়ে স্বাগতিকরা। সেখান থেকে লোকেশ রাহুল ও রায়না রানের চাকা বাড়াতে থাকেন। যদিও ব্যক্তিগত ২২ রানে বেন স্টোকসের বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন রাহুল। এরপর দলের হাল ধরেন রায়না-ধোনি।

চার-ছক্কার ফুলঝুড়িতে দলকে বড় সংগ্রহের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকেন এ দু’জন। গড়েন ৫৫ রানের জুটি। এরই মধ্যে রায়না তুলে নেন হাফসেঞ্চুরিও। তবে দুই চার ও পাঁচ ছক্কায় ৪৫ বলে ৬৩ রান করার পর লিয়াম প্লাঙ্কেটের বলে ফিরে যান বাঁ-হাতি এই ব্যাটসম্যান।

রায়না ফিরে গেলেও আরেক প্রান্ত আগলে রাখেন ধোনি। তুলে নেন টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের প্রথম হাফসেঞ্চুরি। ৩৬ বলে পাঁচ চার ও দুই ছক্কায় ৫৬ রান করে ক্রিস জর্ডানের বলে রশিদের হাতে ক্যাচ দেন সাবেক এই অধিনায়ক। শেষ দিকে যুবরাজ সিংও ঝড় তোলেন। মাত্র দশ বলে এক চার ও তিন ছক্কায় করেন ২৭ রান। শেষ পর্যন্ত ছয় উইকেট হারিয়ে ভারতের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২০২ রান।

Loading Facebook Comments ...

Leave a Reply

x

Check Also

রিয়ালের-৫,বার্সার-৩

কে হচ্ছেন ফিফার বর্ষসেরা। এ তালিকায় সবার উপরে থাকা মেসি-নেইমার কিংবা ক্রিস্টিয়ানো যে কারো হাতে ...