‘২৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়েছি, আরও দুটির যাত্রা শুরু হলো’

শিক্ষা বিস্তারে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ২৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন জানিয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে বর্তমান সরকারের যাত্রা শুরু হয়েছিল। আর তা আজ বাস্তবে রূপ লাভ করেছে। আজ আরও দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নতুনভাবে যাত্রা শুরু করেছে।

বুধবার (১১ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় নগরীর পুরাতন চান্দগাঁও থানার বিএসসি চত্বরে চিটাগাং কিন্ডারগার্টেন ও হাজেরা-তজু স্কুল অ্যান্ড কলেজের উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সফলতা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেওয়ার পর কর্মী প্রেরণের সংখ্যা অনেক বাড়াতে সক্ষম হয়েছি। ২০১৬ সালে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ৭ লাখ ৫৭ হাজার ৭৩১ জন কর্মীর বিদেশে কর্মসংস্থান হয়েছে। ২০১৫ সালের তুলনায় ২০১৬ সালে ৩৬ দশমিক ৩১ শতাংশ বেশি কর্মীর বিদেশে কর্মসংস্থান হয়েছে।

নুরুল ইসলাম বিএসসি বলেন, চট্টগ্রাম জেলার জনগণের অধিক বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সুযোগের কথা বিবেচনা করে আমরা চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়ায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজি স্থাপনের কার্যক্রম শুরু করেছি। বহির্গমন ছাড়পত্র ও স্মার্টকার্ড নেওয়ার জন্য বিদেশগামীদের ঢাকাস্থ বিএমইটি অফিসে আসতে হতো, যা বিদেশগামীদের জন্য ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ। আমি তাই বিকেন্দ্রীকরণের অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম ও সিলেট থেকে সরাসরি বহির্গমন ছাড়পত্র ও স্মার্টকার্ড প্রদান শুরু করেছি। বিএমইটি ঢাকার পাশাপাশি চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, কুমিল্লা, সিলেট, রংপুর, যশোর ও বরিশাল থেকে বিদেশ গমনেচ্ছু কর্মীদের ফিঙ্গার প্রিন্ট কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। এছাড়াও অসুস্থ, মৃত কর্মী ও তাদের পরিবারের সেবা প্রদানের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম বিমানবন্দর হতে একটি অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস যুক্ত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রবাসী কর্মী ও তাদের পরিবারের জীবনমানের উন্নয়ন ও বহুমুখী কল্যাণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘প্রবাসী কল্যাণ বোর্ড আইন ২০১৭’ প্রণয়ন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বিদেশ গমনেচ্ছুক কর্মীদের শতভাগ বিমার আওতায় আনাসহ প্রবাসী কর্মীদের সন্তানদের জন্য আবাসিক স্কুল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। প্রবাসী কর্মী ও তাদের পরিবার পরিজনের সুচিকিৎসার জন্য বিশেষায়িত হাসপাতাল তৈরি পরিকল্পনা রয়েছে।

চিটাগাং কিন্ডারগার্টেন ও হাজেরা-তজু স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও সানোয়ারা গ্রুপ অব কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন সানোয়ারা গ্রুপ অব কোম্পানির চেয়ারম্যান সানোয়ারা বেগম, চট্টগ্রাম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. রফিকুল আলম, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ও মন্ত্রীর একান্ত সচিব মু. মোহসিন চৌধুরী, সানোয়ারা গ্রুপের পরিচালক সাইফুল ইসলাম, জাহেদুল ইসলাম, কামরুল ইসলাম, শাকিলা জাহান, আন্তর্জাতিক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীর এজহারুল হোসাইন, দৈনিক বীর চট্টগ্রাম মঞ্চের সম্পাদক সৈয়দ উমর ফারুক, হাজেরা-তজু বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষ দবির উদ্দিন খান, দিলোয়ারা জাহান মেমোরিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মারুফুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন সমাজসেবক মাতব্বর আবদুল মোমেন, ৪ নম্বর চান্দগাঁও ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাইফুদ্দিন খালেদ, হাজেরা-তজু বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের উপাধ্যক্ষ কুতুব উদ্দিন, হাজেরা-তজু স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ সেলিমুজ্জামান, চিটাগাং কিন্ডারগার্টেনের অধ্যক্ষ ফাতেমা বেগম, মন্ত্রীর নাতনি সিহিন্থা সাবিন রহমান, অভিভাবকদের পক্ষে খায়রুননেছা দিনা প্রমুখ।

উপস্থিত ছিলেন নগর আওয়ামী লীগ নেতা জামশেদুল আলম চৌধুরী, জাফর আহমেদ ও হাজি মোনাফ সওদাগর।

সভাপতির বক্তব্যে মজিবুর রহমান বলেন, আমি আমার বাবার হাত ধরে এতদূর পর্যন্ত এসেছি। আমার বাবা সারাজীবন মানব জাতির অমূল্য সম্পদ শিক্ষা নিয়ে কাজ করেছেন। আমার দৃষ্টিতে তিনি একজন শ্রেষ্ঠ শিক্ষা কারিগর। আমি আমার বাবা আদর্শকে ধরে বাকি জীবন চলতে চাই। আমার বাবার শিক্ষায় শিক্ষা নিয়ে আমি আজ যে দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শুরু করছি তার সাফল্যের জন্য সবার কাছে দোয়া চাই।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সানোয়ারা গ্রুপ অব কোম্পানির চেয়ারম্যান সানোয়ারা বেগম বলেন, মানুষের কল্যাণের জন্য শিক্ষার বিকল্প নেই। শিক্ষাই আনতে পারে শান্তি, প্রগতি ও সমৃদ্ধি।

বিশেষ অতিথি মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মু. মোহসিন চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রাম তথা সারাদেশের শিক্ষাসহ সার্বিক উন্নয়নে মন্ত্রী নরুল ইসলাম বিএসসির ভূমিকা অতুলনীয়। তিনি চট্টগ্রামবাসীর একজন পরম বন্ধু। তার হাত দিয়ে আজ যে দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সূচনা হচ্ছে তা চট্টগ্রামবাসীর জন্য একটি মাইলফলক। আমি সদ্য প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সার্বিক সাফল্য কামনা করছি।

২ একর জমি ওপর তিনতলা ভবনে চিটাগাং কিন্ডারগার্টেন ও হাজেরা-তজু স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হয়।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন হাজেরা তজু বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক মো. আবু বকর সিদ্দিকী।

Loading Facebook Comments ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*