কক্সবাজারের উখিয়া কুতুপালংস্থ রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্পের হামলায় লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার ও আটক তিন ডাকাত..!

কক্সবাজার প্রতিনিধিঃ১১জানুয়ারী,ক/চট্রঃ

চট্টগ্রাম র‌্যাব-৭ গত ৯ জানুয়ারি রাত ৮ টার সময় কক্সবাজারের উখিয়া – কুতুপালং শরনার্থী শিবির সংলগ্ন এলাকা হতে টেকনাফ নয়াপাড়া আনসার ক্যাম্পের অস্ত্র লুটের ঘটনায় জড়িত (১) খায়রুল আমীন @ বড় খায়রুল আমিন (৩২), পিতা-মৃত মোস্তাফিজ, গ্রাম-কুতুপালং (শরনার্থী ক্যাম্প) কে আটক করেন। পরে তার স্বাকার উক্তি মতে ২/মাস্টার আবুল কালাম আজাদ (৪৬), পিতা- নেছার আহমদ, ৩/ হাসান আহমদ (৩০), পিতা-সুলতান আহমদ, গ্রাম-মুচনি নয়াপাড়া কেও আটক করেন র‌্যাব-৭ টিম ।

পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে ১০ জানুয়ারি সকাল ৮টার দিকে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের পুরান পাড়া এলাকাস্থ দুইটি স্থান হতে পাহাড়ে মাটির নীচে ড্রামের মধ্যে রক্ষিত নয়াপাড়া আনসার ক্যাম্পের লুটকৃত ১১টি অস্ত্রের মধ্যে ০৫টি অস্ত্র (০১টি ৭.৬২ মিঃমিঃ এসএমজি বডি নম্বর-১৭১৩৮১৩৫, ০১টি ৭.৬২ মিঃমিঃ রাইফেল বডি নম্বর এ-১০১২৭২৫৩ এবং ০৩টি ৭.৬২ মিঃমিঃ এম-২ রাইফেল বডি নম্বর-০৩৬৭৭, ০২৫০৭, ০৫৭৮৩) এবং লুটকৃত ৬৭০ রাউন্ড গুলির মধ্যে ১৮৯ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। এছাড়াও উক্ত ডাকাতিকালে ডাকাতদের ব্যবহৃত ০১ টি বিদেশী ৭.৬২ মিঃ মিঃ পিস্তল, ০১ টি বন্দুক, ০৩ টি ওয়ান শুটারগান এবং বিভিন্ন প্রকার ২৮ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।

আরো জানা যায় যে, তাদের একটি ২০/২৫ জনের সংঘবদ্ধ দল বিগত ৫/৬ বছর যাবৎ টেকনাফের শাপলাপুর, বাহারছড়া, লেদা ও কক্সবাজারের উখিয়া, কুতুপালং এলাকায় ডাকাতি এবং অপহরণ করে আসছিল। উল্লেখ্য যে, ইতিপূর্বে বিগত ২০১৫ সালে আব্দুল হাফেজ এর নেতৃত্বে উক্ত দলের কয়েকজন সদস্য ধৃত আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার সময় আনসারদের সাথে সংঘর্ষ হয়। হামলার ঘটনায় আব্দুল হাফেজ আনসার সদস্যদের গুলিতে নিহত হয় এবং ঐ ঘটনায় ইতিপূর্বে র‌্যাব কর্তৃক ধৃত রফিক ডাকাত আহত হয়েছিল।
ঘটনার উল্লেখ্য যে ,গত ১২ মে ২০১৬ ইং নয়াপাড়া আনসার ক্যাম্পে তারা হামলা করার পূর্বে বেশ কয়েকবার হামলার প্রস্তুতি নিয়েও ব্যর্থ হয়। ফলে প্রতিনিয়ত তারা আনসার ক্যাম্পের নিরাপত্তায় নিয়োজিত প্রহরীদের গতিবিধি পর্যবেক্ষন করতঃ গত ১২ মে ২০১৬ তারিখে আনুমানিক রাত ১১টার সময় আনসার ক্যাম্পে হামলার উদ্দেশ্যে তারা আনসার ক্যাম্পের পশ্চিম পাহাড়ের কাছে কৌশলগত অবস্থান গ্রহণ করে। তাদের সদস্য সংখ্যা ছিল আনুমানিক ১৮ জন (ইতিপূর্বে র‌্যাব কর্তৃক ০৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে)। এদের মধ্যে ১৪ জন মুখোশ পরিহিত অবস্থায় সরাসরি হামলায় অংশগ্রহণ করে এবং অপর ০৪ জন বাহির হতে পর্যবেক্ষকের দায়িত্বে থাকে। অতঃপর তারা অপেক্ষা করতে করতে যখন বুঝতে পারে অধিকাংশ আনসার সদস্যই ঘুমিয়ে পড়েছে তখন তারা ক্যাম্পে হামলা চালায়। হামলাকারীদের মধ্যে নুরুল আলম ও বড় খায়রুল আমিন দা দিয়ে আনসার ক্যাম্পের বেষ্টনি কেটে আনসার ক্যাম্পে প্রবেশ করে এবং বাকীরা তাদের অনুসরণ করে। তারা আনসার ক্যাম্পের অভ্যন্তরে প্রবেশ করার পর ডিউটিরত আনসার সদস্য অজিত বড়ুয়া’কে হাত-পা ও মুখ বেঁধে ফেলে। তারপর তারা আনসার ক্যাম্পের ভিতরে ঢুকে ঘুমন্ত অন্যান্য আনসার সদস্যদেরকে হাত-পা ও মুখ বেঁধে ফেলে এবং আনসার ক্যাম্প কমান্ডার পিসি আলী হোসেন অস্ত্রাগারের চাবি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে দৌড়ে পালাতে চাইলে নুরুল আলম তাকে গুলি করে। অতঃপর তারা অস্ত্র ও গুলি লুট করে ক্যাম্প ত্যাগ করে। অস্ত্র ও গুলি নিয়ে যাওয়ার পর প্রথমে তারা বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ের গহিন জঙ্গলে লুকিয়ে রেখে আত্মগোপনে চলে যায়। আইন-শৃংখলা বাহিনীর ক্রমাগত অভিযানের ফলে বেশ কয়েকদিন তারা গা ঢাকা দেয়। পরবর্তীতে তারা পুনরায় অস্ত্র ও গুলি বিভিন্ন জায়গায় স্থানান্তর করে সর্বশেষে ঘুমধুম এলাকায় রাখে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায় যে, অবশিষ্ট অস্ত্র ও গোলাবারুদ তাদের পলাতক আসামীদের জিম্মায় রয়েছে। তবে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদে এ সম্পর্কীয় আরও তথ্য পাওয়া যাবে।

এই দলটি মূলত অস্ত্র লুট করার উদ্দ্যেশে আনসার ক্যাম্পে হামলা করেছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, তাদের পরিকল্পনা ছিল লুট করা অস্ত্রের মাধ্যমে তাদের অস্ত্র ভান্ডার বৃদ্ধি করে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করা এবং অন্যান্য সন্ত্রাসী দলের কাছে অস্ত্র ও গুলি সরবরাহ করা। আটক কৃতদের অস্ত্র ও সন্ত্রাসী আইনে মামলা দিয়ে কোট হাজতে পাঠানো হয়েছে বলে উখিয়া থানা সূত্রে জানান।

Loading Facebook Comments ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*